Status

কুষ্টিয়ায় দলিল জালিয়াতির অভিযোগে সাব রেজিস্ট্রার কারাগারে

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে দুই বোনের প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক সাব রেজিস্ট্রারকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

 

বুধবার তিনি কুষ্টিয়ার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তপন রায় শুনানি শেষে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে আদেশ দেন বলে জানান আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম।

 

কারাগারে যাওয়া সুব্রত কুমার সিংহ (৪৬) যশোরের মনিরামপুর উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের দুর্গাপদ সিংহের ছেলে। বর্তমান তিনি দিনাজপুর সদরে সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত আছেন।

 

বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম বলেন, জানুয়ারিতে সুব্রত কুমার উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন নিয়েছিলেন। উচ্চ আদালতের বেঁধে দেওয়া শেষ হলে তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন।

 

তিনি বলেন, ২০২২ সালের ১০ মার্চ এবং ১৯ জুন কুষ্টিয়া সাব রেজিস্ট্রার অফিস ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে জাল দলিলের মাধ্যমে নামজারি করে আপন দুই বোনের ১০ কোটি টাকার ২৮ বিঘা পৈতৃক ও পেট্রলপাম্পের জমি জবরদখল ও আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে ভুক্তভোগী দুই বোন আদালতে যান।

পরে ভুক্তভোগী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বেড় বাড়াদি গ্রামের প্রয়াত নিয়ামত আলী শেখের মেয়ে জমিলা নাহার শেখ এবং তার বোন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী জুবাইদা নাহার শেখ আদালতে সাতটি মামলা করেন।

 

এসব মামলা তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেয় আদালত। তদন্ত শেষে পিবিআইয়ের কর্মকর্তা পরিদর্শক রবিউল আলম ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

আসামিরা স্বাক্ষর জালিয়াতি ও ভুয়া দলিলের মাধ্যমে দুই বোনের প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা।

আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মনোহরদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক কর্মকর্তা মেসবাহুর রহমান (৫৫), একই উপজেলার লাহিনী গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে শামসুল ইসলাম (৩০), দুর্বাচারা গ্রামের শাহ খলিলুর রহমানের ছেলে শাহ ইউসুফ হোসাইন (৩২), লাহিনী গ্রামের আক্তার খাঁর ছেলে সাদ্দাম খাঁ (৩১), লাহিনী গ্রামের প্রয়াত সামাদ খার ছেলে আক্তার হোসেন (৬১), একই গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে তানভির হোসেন (২৩), নড়াইলের মাধবপাশা গ্রামের হামিদুল হকের ছেলে এস এম জিয়াউর রহমান (৪১), তার স্ত্রী সুমনা (৩০), কুষ্টিয়া সদরের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ, অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম মুকুল এবং অফিস সহকারী নুরুল ইসলাম খোকন।

Source link

Leave a Reply

Back to top button