‘ইউক্রেন বিক্রি’ করতে রাজি জেলেনস্কি

রাশিয়ার অভিযানে পর সামরিক ও অন্য যেসব সহায়তা যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে দিয়েছে তার পরিবর্তে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের ওপর অধিকার দিতে চাপ দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। জবাবে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ‘আমি আমার দেশ বিক্রি করতে পারি না’। মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে। ‘আমরা সেই অর্থ ফেরত চাই। আমরা বড় সমস্যায় থাকা দেশকে সাহায্য করেছি.. কিন্তু আমেরিকার করদাতারা এখন তাদের অর্থ ফেরত পেতে চায়।’
এরপরেই খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বড় ধরনের চুক্তির শর্তাবলীর বিষয়ে রাজি হয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভে একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বিবিসিকে এটি জানিয়েছেন। ‘বেশ কিছু ভালো সংশোধনী নিয়ে আমরা একমত হয়েছি এবং এটিকে একটি ইতিবাচক ফল হিসেবেই দেখছি,’ বলছিলেন ওই কর্মকর্তা। তবে এর বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে ইউক্রেনের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর যে অধিকার দাবি করেছিলো সেটি থেকে সরে এসেছে। তবে একই সঙ্গে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তাও দিচ্ছে না তারা, যা দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, তিনি আশা করছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে এসে এ সপ্তাহেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। এর আগে দুই সপ্তাহ ধরে তারা একে অপরকে উদ্দেশে নানা মন্তব্য করেছিলেন। সমঝোতায় উপনীত হবার বিষয়টি নিশ্চিত না করেই ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন চুক্তির বিনিময়ে ইউক্রেন লড়াই চালিয়ে যাবার অধিকার পাবে। ‘তারা খুব সাহসী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও সামরিক উপকরণ ছাড়া যুদ্ধ অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতো,’ বলেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপকরণ ইউক্রেনে সরবরাহ অব্যাহত থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হয়তো রাশিয়ার সাথে আমাদের একটি চুক্তি হওয়া পর্যন্ত….আমাদের একটি চুক্তিতে পৌঁছানো দরকার, না হয় এটা চলতে থাকবে।’ ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন যে, শান্তি চুক্তির পর ইউক্রেনে ‘কোনও এক ধরনের শান্তিরক্ষা’ কার্যক্রমের দরকার হবে কিন্তু সেটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। গত সপ্তাহেই ট্রাম্প জেলেনস্কিকে একজন ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং যুদ্ধ শুরুর জন্য অনেকটা ইউক্রেনকেই দোষ দিয়েছেন। এর আগে জেলেনস্কি ইউক্রেনের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদের যে দাবি যুক্তরাষ্ট্র করেছিলো তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ‘বিভ্রান্তির জগতে’ বাস করছেন, যা রাশিয়ার তৈরি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়া ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলহা স্টেফানিশায়না ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন ‘চুক্তি পুরো ছবির একটি অংশ মাত্র’। ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কাছ থেকে অনেকবার শুনেছি যে এটা বড় দৃশ্যপটের একটি অংশ,’ বলেছেন তিনি। ইউক্রেনের সূত্রগুলো বলছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র যেসব দাবি করছে তা থেকে তাদের পিছিয়ে যেতে হবে এবং চুক্তির অনেক কিছু নিয়েই আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন ইউক্রেনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির নতুন মোড়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামী চার বছরে ট্রাম্প ও তার বৈদেশিক নীতি বিষয়ক দল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রয়োগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেনের নিউজ সাইট ইউক্রেরাইনস্কা প্রাভডা বলছে খনিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এতে বলা হয় যে দুই দেশ একটি পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিলও গঠন করবে। ইউক্রেনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের লিথিয়াম, টাইটানিয়াম, কয়লা, গ্যাস ও তেলের মজুদ আছে। সূত্র : বিবিসি।