প্রশাসনে চলছে ‘ডিএনএ’ খেলা

প্রশাসনে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তারা ওএসডি এবং বাধ্যতামূলক অবসর আতঙ্কে। বিএনপিপন্থী কর্মকর্তারা গত ১৭ বছর পদোন্নতি না পেয়েও বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন। আবার জামায়াতপন্থী কর্মকর্তাদের কোণঠাসায় পড়তে হচ্ছে অনেক কর্মকর্তার। সব মিলিয়ে প্রশাসনে পদোন্নতি ও বদলি নিয়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মিলে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে নারাজ। অন্যদিকে সাবেক সচিব জাকির খানের কমিটির যেসব কর্মকর্তা পদোন্নতির সুপারিশ করেছেন সেখানে অনক দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদের দোসরখ্যাত কর্মকর্তাদের সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। বরং বঞ্চিত মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি না দিয়ে আবারো বঞ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের ছয় মাসে প্রশাসনে জামায়াত-ফ্যাসিবাদপন্থীদের জয়জয়কার। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার ১৭ বছরের শাসনামলে মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বস্তরেই চালু করেছিল আওয়ামীকরণ। কোনো প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে সচিব পদ পর্যন্ত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ডিএনএ টেস্ট করে নিয়োগ দেয়া হতো আওয়ামীপন্থীদের। বর্তমান সরকারে আমলেও আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এবং জামায়াতপন্থীদের একই কায়দায় ডিএনএ টেস্ট করে উপসচিব থেকে সচিব পদে পদোন্নতি ও নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এতে করে নিয়োগ বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হচ্ছে। অনেক সময় প্রজ্ঞাপন, অফিস আদেশ জারি করেও তা টেকাতে পারছে না সরকার। বিগত সরকারের সময়ে বঞ্চিত হয়ে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বর্তমান সরকার। ১০ ডিসেম্বর কমিটি ৭৬৪ জনকে বিভিন্ন স্তরে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা দেয়ার সুপারিশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ৭৬৪ জন কর্মকর্তার মধ্যে সচিব পদে ১১৯ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৫২৮ জন, গ্রেড-১ পদে ৪১ জন, যুগ্মসচিব পদে ৭২ জন এবং উপসচিব পদে চারজনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতি দিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সারসংক্ষেপ সুপারিশসহ অনুমোদন দিলেও তার বাস্তবায়ন করছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যাদের পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করা হয়েছে, তারা জনপ্রশাসনের বারান্দায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তারপরও আদেশ পাচ্ছেন না। অথচ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আদেশ জারি করা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিগত সরকারের আমলে প্রশাসনে ডিএনএ টেস্টের নামে চোর-পুলিশ খেলা ছিল। এবার প্রশাসনে জামায়াতের ডিএনএ টেস্ট খেলা চলছে বলে অভিযোগ বঞ্চিত কর্মকর্তাদের।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস ও অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সূরাতুজ্জামান ইনকিলাবকে বলেন, বিগত সরকারের আমলে প্রশাসনে ডিএনএ টেস্টের নামে চোর-পুলিশ খেলা ছিল। এবার প্রশাসনে ডিএনএ টেস্ট একটি পন্থীর খেলা চলছে। আবার অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতি দিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সারসংক্ষেপ সুপারিশ করা হয়েছে। যাদের পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করা হয়েছে, তারা পাচ্ছে না। পাচ্ছে অন্য-পন্থীরা। তারা জনপ্রশাসনের বারান্দায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বার ঘুরেছেন। তারপর আদেশ পাচ্ছেন না। এরকম চলতে থাকলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তেই থাকবে।
গত রোববার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, চারটি সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সভায় সচিব পদের জন্য ১২ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে। তারা অধিকাংশই যোগ্য ও বঞ্চিত কর্মকর্তা। যাদের বাছাই করা হয়েছে তারা কেউ চুক্তিভিত্তিক নন; বরং চাকরিতে কর্মরতদের মধ্যে থেকেই সচিব করা হচ্ছে। বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য সাবেক জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মধ্যে কাউকে ওএসডি, কাউকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে যারা অর্থনৈতিক অপরাধ ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তালিকা পাঠানো হবে।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হলেও দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়নি শিক্ষা প্রশাসন। বহাল তবিয়তে আছে আওয়ামীপন্থী সেই সব কর্মকর্তা-কর্মচারী। আর যেসব পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে সেখানে নতুন করে দলীয়করণ চালু করেছে জামায়াত! মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, বোর্ড কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ৫ আগস্টের পর যেখানেই নতুন নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তার বেশির ভাগই নিয়োগ পেয়েছে রাজনৈতিভাবে জামায়াত চেতনাধারীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে চলছে বিতর্ক। নেটিজেনদের অনেকেই এ নিয়ে প্রতিবাদ করছেন। তাদের বক্তব্যÑ হাসিনার অলিগার্ক কর্মকর্তাদের সরিয়ে প্রশাসনে জামায়াতের অনুসারীদের নিয়োগ প্রশাসনের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে দলবাজি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা বলে আসছেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকর্তাদের বিচার করা হবে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি এ সরকার। পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১৫ বছর বঞ্চিত কর্মকর্তারা রাস্তায় রাস্তায় এখনো ঘুরছেন। ফ্যাসিবাদের দোসররা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। আবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখনো ফ্যাসিবাদী কর্মকর্তাদের দখলে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ও ২৫ ক্যাডার কর্মকর্তারা নিজেদের পদ-পদবি, মান-মর্যাদাসহ বিভিন্ন চাওয়া-পাওয়া নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগীদের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, বঞ্চিত কর্মকর্তাদের কম গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, দরকারি ক্ষেত্রে বঞ্চিতদের উপেক্ষা, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, কর্মরত কর্মকর্তাদের সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা, চেয়ার হারোনোর ভয়ে তটস্থ থাকাসহ নানা কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ থেকে বিএনপিপন্থী বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের পদায়ন করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রলালয়ের সিনিয়র সচিব।
প্রশাসনে যেসব পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে, সেখানে জামায়াতপন্থী এবং আওয়ামী’লীগপন্থী কর্মকর্তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন। বিএনপিপন্থীদের দেয়া হচ্ছে না। আপনারা তিন সচিব বাধা দিচ্ছেন এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্নে করা হলে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থানরত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ গতকাল ইনকিলাবকে বলেন, প্রশ্নটা সহজবোধ্য নয়। আর আমি কোনো বাধা দেয়ার ক্ষমতা রাখি না। আমার কাছে কোনো পন্থী নাই। সবাই সরকারের কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বৈরাচারের ক্ষমতা প্রলম্বিত করতে যারা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের বিচার হবেই। তবে নিরীহ কারো কিছু হবে না। তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইতোমধ্যে বিগত সময়ের বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করাসহ নানা রকম অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকা কর্মকর্তাদের অনেকেই ফেঁসে গেছেন। এছাড়া বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ মিশন ও পদে পোস্টিং পাওয়া কর্মকর্তারাও আছেন দুশ্চিন্তায়। তারা ওএসডি এবং বাধ্যতামূলক অবসরের ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রশাসনে নতুন করে আতঙ্ক শুরু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সাত দফতরে নতুন সচিব নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেনÑ আলেয়া আক্তার (পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ), মো. কামাল উদ্দিন (সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রণালয়), মো. তাজুল ইসলাম (বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ- আইএমইডি), মো. মিজানুর রহমান (বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়), মোহাম্মদ আবদুর রউফ (সেতু বিভাগ), জাহেদা পারভীন (সমন্বয় ও সংস্কার- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ), মাহবুবুর রহমান (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)। এ নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। কোনো কোনো কর্মকর্তা বলছেন, যাদের সরকার সচিব বানিয়েছেন তাদের দু-একজন ছাড়া সবাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কর্মকর্তা। মিজ জাহেদা পারভীন ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা। হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি নিয়মিত পদোন্নতি পেয়েছেন। বর্তমানে ক্যাবিনেটে থাকলেও ইতোপূর্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ পর্যন্ত পদোন্নতি -বঞ্চিত হননি। উপ-সচিব, ও যুগ্ম সচিব, হওয়ার পরে দল বেঁধে টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করেছেন উৎসবের মধ্য দিয়ে। তার স্বামী এ এইচ এম শফিকুজ্জামান আওয়ামী আমলের প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন এবং শেখ রেহানার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি এখনো শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে কর্মরত। শফিকুজ্জামান ইতোপূর্বে সচিব হওয়ার আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ৯ বছর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পাঁচ বছর একনাগাড়ে চাকরি করেছেন। আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে পরিচিত ছিলেন। শফিকুজ্জামান অতিমাত্রায় দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় যখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী দিয়ে সারা ঢাকা শহরে ছাত্রদের হত্যা করা হচ্ছিল, সেই সময়ে ৩০ জুলাই ২০২৪ এ মিজ জাহেদা পারভীন তার বাসায় স্বামী-স্ত্রী মিলে এবং জাহেদা তার ব্যাচমেটদের নিয়ে মহাউৎসবে মেতে ছিলেন। ৩০ তারিখের পরদিন ফেসবুকে এই ছবি শোভা পাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ ৫ আগস্টের পর সেই ছবি ফেসবুক থেকে উধাও হয়ে যায়। এরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। শোনা যায়, এক ছাত্র সমন্বয়ক বর্তমানে উপদেষ্টাÑ তিনি উভয়কে লিফট দিয়েছেন, সচিব বানিয়েছেন। বঞ্চিতদের দাবি, পতিত হাসিনার দোসররা এখনো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে বসে পরিকল্পিতভাবে আমাদের অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করে দেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে, অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা চুপচাপ শুধু দেখেই যাচ্ছেন। দেশের পরিস্থিতি এভাবে চলতে পারে না। আমরা অবিলম্বে সচিবালয়, পুলিশ প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোকে হাসিনার দোসরমুক্ত দেখতে চাই বলে দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা। এতে একদিকে যেমন জনসাধারণ কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনিভাবে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিতর্কিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ২২ জন সাবেক জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে দুজন সচিব, ১৮ জন অতিরিক্ত সচিব, একজন যুগ্মসচিব এবং একজন উপসচিব রয়েছেন। তারা সবাই ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। একই দিন ওএসডি অবস্থায় থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক সচিব আবু হেনা মো. মোর্শেদ জামানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তিনি হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে প্রশাসনের সর্বত্র ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতেনÑ এমন অভিযোগ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তার। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, এ বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১২ জন সচিব, পাঁচ জন গ্রেড-১-সহ ২৯ জন অতিরিক্ত সচিব, একজন যুগ্মসচিব এবং একজন উপসচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।
বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএসএ) সাবেক সভাপতি ড. আনোয়ার উল্ল্যাহ ইনকিলাবকে বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবে আর বঞ্চিত কর্মকর্তারা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবেন, এটি মেনে নেয়া যায় না। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা আছেন; তাদের কারণে প্রশাসনে অস্থিরতা কমছে না। তারা ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন করছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা স্বৈরাচারের আমলে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন।