রাঙামাটিতে পর্যটনের উন্নয়ন ও বিকাশে নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে রাঙামাটি জেলা পরিষদ: সদস্য হাবীব আজম

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি রাঙামাটি, যেখানে প্রতিবছর হাজারো পর্যটক ঘুরতে আসেন। এখানকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য, লেক, পাহাড় ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। কিন্তু পর্যটন অবকাঠামোর অভাব, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার সংকট ও আধুনিক বিনোদনের অভাবের কারণে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তবে এবার রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পর্যটনের আধুনিকায়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

মো. হাবীব আজম পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার পর গত ২০২৪ নভেম্বর তিনি পর্যটন কর্পোরেশন ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি পর্যটনের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

পর্যটন বিভাগের আহ্বায়ক ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম জানিয়েছেন, পর্যটকদের আরও আকৃষ্ট করতে বেশ কিছু ছোট-বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “রাঙামাটিকে একটি উন্নত পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে পর্যটকরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারবেন এবং নতুন আকর্ষণগুলো তাদের আনন্দ দেবে।”

তিনি আরও জানান, আগামী এক মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম শুরু হবে। এর মধ্যে অন্যতম প্রকল্প হচ্ছে ঝুলন্ত সেতুর আশপাশের পাহাড়গুলোকে নতুনভাবে সাজানো। তিনি বলেন, “ঝুলন্ত ব্রিজের পাশে পর্যটন কর্পোরেশনের দুটি পাহাড় রয়েছে। আমরা এই পাহাড় দুটিকে পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি। সেখানে সেলফি পয়েন্ট, লাভ পয়েন্টসহ আরও কিছু ছোট আকৃতির পর্যটন স্পট তৈরি করা হবে, যাতে পর্যটকরা এখানে এসে উপভোগ করতে পারেন ও রাঙামাটির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন।”

পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নেও উদ্যোগ নিয়েছে রাঙামাটি জেলা পরিষদ। পর্যটন এলাকায় প্রয়োজনীয় ওয়াশরুমের অভাব দীর্ঘদিন ধরেই ছিল, যা পর্যটকদের জন্য বেশ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ প্রসঙ্গে মো. হাবীব আজম বলেন, “ঝুলন্ত সেতুর পাশেই পর্যাপ্ত ওয়াশরুম না থাকায় পর্যটকদের অসুবিধা হচ্ছিল। তাই আমরা সেতুর দুই পাশে ওয়াশরুম নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছি, যা খুব দ্রুতই চালু হবে।”

তাছাড়া, পর্যটন এলাকায় যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা ভাসমান দোকানপাটকে একটি নির্দিষ্ট সেটআপের মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “পর্যটন এলাকায় অগোছালোভাবে ছড়িয়ে থাকা দোকানগুলো পর্যটকদের চলাচলে অসুবিধা তৈরি করছে। তাই আমরা দোকানগুলোকে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় স্থানান্তর করছি, যাতে পর্যটকদের চলাফেরার সুবিধা হয় এবং পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য বজায় থাকে।”

পর্যটনের আরও আকর্ষণীয় উন্নয়নের জন্য ক্যাবল কার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মো. হাবীব আজম। তিনি বলেন, “আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম একটি প্রকল্প হলো রাঙামাটিতে ক্যাবল কার স্থাপন। এটি চালু হলে পর্যটকরা আকাশপথে রাঙামাটির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন, যা পর্যটনের জন্য নতুন মাত্রা যোগ করবে। তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় অঙ্কের বরাদ্দ প্রয়োজন, যা এখনো পাইনি।”

তিনি জানান, পর্যটন উন্নয়নে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাছে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পর্যটন খাতের জন্য যে সামান্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা দিয়েই যতটুকু সম্ভব উন্নয়ন করা হচ্ছে। তবে যদি পর্যটন খাতের জন্য পৃথক বরাদ্দ পাওয়া যায়, তাহলে রাঙামাটির পর্যটন শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

রাঙামাটি তার অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। এখানকার কাপ্তাই লেক, ঝুলন্ত সেতু, শুভলং জলপ্রপাত, সাজেক উপত্যকা ও স্থানীয় উপজাতীয় সংস্কৃতি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। তবে আধুনিক পর্যটন সুবিধা না থাকায় অনেক পর্যটক বারবার এখানে আসতে আগ্রহ দেখান না। যদি পর্যটন উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হয়, তাহলে রাঙামাটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

পর্যটন খাতের উন্নয়নে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নতুন আকর্ষণ তৈরি করা ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।

মো. হাবীব আজমের নেতৃত্বে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ যে নতুন প্রকল্পগুলো হাতে নিয়েছে, তা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে রাঙামাটির পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং পর্যটকদের কাছে রাঙামাটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

Source link

Exit mobile version