
বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কে ভাটা পড়েছে ভারতের। দেশে গণহত্যা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত যে ভুল করেছে তার খেসারত দিতে হচ্ছে পদেপদে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে বাংলাদেশের জনগণের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হাসিনা, এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি বাংলাদেশে অস্ত্র সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে চীন। এই খবরে যেনো মাথায় হাত ভারতীয়দের।
পাকিস্তান ও চীনের সাথে সীমান্ত নিয়ে ভারতের বিরোধ যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। বাংলাদেশের সাথেও সীমান্তে মাঝেমধ্যেই উত্তেজনা ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত ভারত। স্বৈরাচার হাসিনা পালানোর পর থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ। যদিও বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি একটুও ছাড় দেয়নি ভারতের দাদাদের। চোখে চোখ রেখে নিজেদের জমির এক ইঞ্চি মাটিও ছেড়ে দেয়নি ভারতকে। চাপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে দেখা যায় কাস্তে হাতে কৃষক বিজিবির সাথে ভারতের সীমান্তের দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে দেখছেন। মনে হচ্ছে ভারতের বিএসএফ যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে বাংলাদেশের সাথে। এসবের পরই হঠাৎ করে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াওয়েন বাংলাদেশে চীনের তৈরি সামরিক অস্ত্র বিক্রির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যা নিয়ে চলছে রীতিমতো তোলপাড় অবস্থা।
যদিও বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সমরাস্ত্র সরবরাহ করে আসছে চীন। সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি তাদের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চীন বাংলাদেশকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহে আগ্রহী হওয়ার পেছনে একাধিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চীন মূলত এমন দেশগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করতে চায় যারা তুলনামূলক সস্তা এবং কার্যকর অস্ত্র খুঁজছে। সেক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি নির্ভরশীল কৌশলগত অংশীদার তৈরি করতে চায়। শুধু চীনই নয় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং তুরস্কও এখন বাংলাদেশে সমরাস্ত্র সরবরাহ করতে আগ্রহী। অপরদিকে পাকিস্তানের সাথেও বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো হচ্ছে। পাকিস্তানের জাহাজ বাংলাদেশে এসেছে কয়েক দফা তাও আবার বিভিন্ন পণ্য নিয়ে। এসবে এখন জ¦লছে ভারত। চীন ও পাকিস্তান, ভারতের ঘোড় শত্রু। বাংলাদেশের সাথে তাদের সম্পর্ক ভালো হওয়া নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন এখন দাদারা।