
ফাগুনের মিষ্টি বাতাসে গাছে গাছে ফুটেছে কাঠালের মোচা। এটি সেই সময় যখন প্রকৃতি তার রূপ বদলাতে শুরু করে, গ্রীষ্মের আগমনে হালকা গরম বয়ে আনে। এই সময়েই শুরু হয় কাঠালের মৌ মৌ সুবাস ছড়িয়ে পড়ার। কাঁঠাল, যাকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন ফল বলা হয়, খুব শিগগিরই গাছে গাছে সুরভি ছড়াবে এবং বাজারে এর উপস্থিতি আরও বাড়বে। কাঠাল একটি এমন ফল, যা কেবল রসালো এবং সুস্বাদু নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ।
বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে কাঠালের গাছ দেখা যায়। বিশেষত, গ্রামাঞ্চলে কাঠাল গাছের সংখ্যা অনেক বেশি। ফাগুন মাসের শেষে এবং চৈত্র মাসের শুরুতেই কাঠালের মোচা ফুটতে শুরু করে। কাঁঠালের মোচা এই সময়ে সোনালী রঙ ধারণ করতে শুরু করে, এবং কাঠালের বীজ থেকে বেরিয়ে আসা ফলটি পরিপূর্ণ হওয়া পর্যন্ত সময় নেয় কিছুটা। এই পরিপূর্ণ ফলটি যখন গাছ থেকে নিচে পড়ে, তখন গ্রামের মানুষরা আনন্দের সঙ্গে তা সংগ্রহ করে এবং রান্নাঘরে নিয়ে আসেন।
কাঠাল বিভিন্ন রকমের খাবারে ব্যবহৃত হয়। যেমন—কাঠাল ভর্তা, কাঠাল কাবাব, কাঠাল তরকারি এবং কাঠালের চিপস ইত্যাদি। এছাড়া কাঠাল মিষ্টি তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। গ্রীষ্মকালে কাঠালের পরিপক্বতা বাড়ে এবং ফলটি রসালো ও মিষ্টি হয়ে ওঠে। কাঠালের বৈশিষ্ট্য হলো এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি, ভিটামিন, মিনারেলস এবং ফাইবার থাকে। এই পুষ্টিগুণ কাঠালকে প্রিয় ফলের তালিকায় উপরের দিকে স্থান করে দিয়েছে।
এছাড়া কাঠাল সারা বছর ধরে বিক্রি হয় না, বরং এটি একটি মৌসুমী ফল, যা গ্রীষ্মকালে বিশেষভাবে পাওয়া যায়। কাঠাল পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুব কমই আছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে, কাঠালকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়, কারণ এটি একদিকে যেমন খাদ্য হিসেবে উপকারী, অন্যদিকে এর ব্যবহার বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতিতে করা যায়।
কাঠাল শুধুমাত্র তার পুষ্টিগুণের জন্য নয়, তার বিশেষ সুরভির জন্যও জনপ্রিয়। বিশেষত, কাঠালের পরিপক্ব ফলের ঘ্রাণ এলে তা পুরো পরিবেশে ছড়িয়ে যায়। গ্রীষ্মের এই সময়ে কাঠাল যেন একটি বিশেষ উৎসব হয়ে ওঠে। যার কারণে বাজারের ব্যবসায়ীরা কাঠালের মৌ মৌ সুবাস ছড়িয়ে পড়ার সময়টিকে বিশেষভাবে নজরে রাখেন। কাঠাল ধীরে ধীরে মিষ্টি হয়ে ওঠে এবং পুষ্টিকর উপাদানে ভরপুর থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী।
নগরীর টুটপাড়া আদশ্য পাঠাগারের মোঃ মোজাহিদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলিতে কাঠালকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে দেখা হয়, কারণ এটি তীব্র গ্রীষ্মকালেও মানুষকে স্বস্তি ও শীতলতা প্রদান করে। এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, যা বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের খাবারের পাশাপাশি পুষ্টির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। খুলনার বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় কাঠাল গাছের মোচায় ভরে গেছে। দেখতে ভালই লাগে। আর কিছুদিন পর আমরা কাঁঠালের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবো।
খুলনার গণমাধ্যমকর্মী মাহবুবুর রহমান মুন্না বলেন, গাছের শাখায় শাখায় ঝুলে থাকা কাঠালের মোচাগুলি দেখতে খুবই সুন্দর। ছোট ছোট ফুলের মতো মনে হয়। যেগুলোর ভিতরে ডালপালার মতো একরকম আচ্ছাদন থাকে। কাঠালের গাছ অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী। বছরের পর বছর কাঠাল ফলানোর জন্য পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। কাঠাল গাছ খুবই পরিচর্যাশীল। এর গাছের ছায়ায় বসে থাকা মানুষের মনকে শান্তি ও প্রশান্তি দেয়। কনক্রিটের এই শহরে আর কয়েকদিন পর কাঠালের মৌ মৌ সুবাস ছড়িয়ে পড়বে।
ফাগুনের বাতাসে কাঠালের মোচা ফুটে ওঠার মধ্যে এক ধরনের বিশেষত্ব রয়েছে। এই সময়ের পরিপূর্ণ কাঠাল আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং খাদ্যগত মানের একটি উদাহরণ, যা গ্রামবাংলার মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রিয় এবং প্রত্যাশিত হয়ে থাকে।