দুই টুকরো কমলা খাওয়ায় শিক্ষার্থীর পিঠে ৭ লাঠি ভাঙলেন শিক্ষক

ঝিনাইদহে ইফতার শেষে বেঁচে যাওয়া অতিরিক্ত দুই টুকরো কমলা খাওয়ায় এক মাদরাসা ছাত্রকে (১৬) পিটিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সদর উপজেলার মথুরাপুর এতিমখানা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বুধবার (৫ মার্চ) বিকেলে তা প্রকাশ হয়ে যায়। এরপরই অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ইমরান হাওলাদার পালিয়ে যান।
মাদরাসার শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার ইফতারের পর দুই টুকরো কমলা অতিরিক্ত থেকে যায়। মাদরাসার সুপারকে জানিয়ে কমলার টুকরো দুটি হেফজ বিভাগের এক ছাত্র খেয়ে নেন। পরে সহকারী শিক্ষক ইমরান হাওলাদার ওই ছাত্রকে ডেকে কমলা খাওয়ার অপরাধে বেধড়ক মারধর করেন। তার পিঠে একে একে ৭টি লাঠি ভাঙেন অভিযুক্ত শিক্ষক। এতে ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ইফতারের পর মাদরাসার ডাইনিংয়ে দুই টুকরো কমলা বেঁচে ছিল। সুপার স্যারকে বিষয়টি জানাই। স্যার বলেছিলেন, কেউ না চাইলে তোমরা খেয়ো। পরে আমি কমলা খেয়েছি। এরপর ইমরান স্যার আমাকে ৭টি লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হাওলাদার পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মাদরাসার সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরকম নির্যাতনের ঘটনা আমি জানতে পারিনি। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফএ/এএসএম