খাল দখলে নিয়ে ইজারাদারকে মারধর, ৪ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ


পাবনার চাটমোহরে সরকারি খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে আব্দুস সাত্তার নামের ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে ইজারাদারকে মারধর ও হত্যার হুমকির পাশাপাশি চার লাখ টাকার মাছ লুটেরও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সুপার, র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তার উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের হাসুপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব মুসুল্লির ছেলে। তিনি হান্ডিয়াল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। অন্যদিকে ভুক্তভোগী একই ইউনিয়নের খন্দকার পাড়ার মৃত গিয়াস উদ্দিন খন্দকারের ছেলে সানোয়ার খন্দকার।

লিখিত অভিযোগ ও অন্যান্য নথি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ও নিমাইচড়া ইউনিয়নে অবস্থিত পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা বাঁধের বড়পিট বা খাল পাঁচ বছরের জন্য প্রথম ইজারা নেন ওই এলাকার কয়েকজন সুফলভোগী। এদের মধ্যে একজন ভুক্তভোগী সানোয়ার খন্দকার। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে হান্ডিয়াল ইউনিয়নের ডেফলচরা রাস্তা থেকে শাহাদতের পুকুরের দক্ষিণ পাড় পর্যন্ত ওয়াপদা বাঁধের দেড় একর খাল ইজারা নেন। এরপর কয়েক দফায় ইজারা নবায়নের মাধ্যমে এ খালে মাছ চাষ করতে থাকেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন এ খাল জেলা প্রশাসন নিজেদের দাবি করে অন্যত্র ইজারা দিলে এটি ভোগদখলে জটিলতা দেখা দেয়।

জটিলতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে সুফলভোগীদের পক্ষে ভুক্তভোগী সানোয়ার খন্দকার ২০১২ সালে চাটমোহর থানা সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। ২০১৩ সালে এ মামলার রায়ে সানোয়ার খন্দকার ও সুফলভোগীদের বিনা বাধায় ভোগদখলের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ খাল অন্যত্র ইজারা বা ভোগদখলে বিধিনিষেধ দেন আদালত।

এ রায়ের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে ইজারা নেওয়া ব্যক্তিরা আপিল করলেও তা খারিজ করে আগের রায়ই বহাল রাখেন আদালত। তবে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ২০১৩ সালের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড নতুন করে ইজারা দিতে না পারলেও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভুক্তভোগী সানোয়ার খন্দকার ও তার সঙ্গে থাকা সুফলভোগীরা এখনো ওই খাল ভোগদখল করছেন। ৫ আগস্টের পর সানোয়ার খন্দকারের লিজ নেওয়া খাল অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার দখলে নেন। বৈধ কাগজপত্র দেখালেও ভুক্তভোগীকে খালে না আসতে হুমকি-ধমকি দেন ও মারধর করেন। এমনকী চার লাখ টাকার মাছ লুট করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকি দেন আব্দুস সাত্তার।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকারি খাল লিজ নিয়ে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভোগদখল করছি। সরকার পতনের পর হুট করে সাত্তার বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে অন্যায়ভাবে খাল দখলে নিয়েছেন। আমার চার লাখ টাকার মাছ এরইমধ্যে জোর করে লুটে নিয়েছেন। বাধা দিতে গেলে মারধর করেছেন, হত্যার হুমকি দিয়েছেন। বারবার পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। আমি এর বিচার চাই।’

তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন অভিযুক্ত ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সাত্তার। তিনি বলেন, ‘তারা এই খাল নিজেরা একা খেতো, একটা মানুষকেও মাছ ধরতে দিতো না। তাই এলাকার মানুষ এটিকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আমি জনগণের পক্ষে শুধু সঙ্গে থেকেছি।’

তবে সরকারি খাল ইজারাদার ছাড়া আপনি বা জনগণ নামতে পারেন বা উন্মুক্ত করতে পারেন, এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

দলীয় পরিচয়ে কোনো অপকর্ম করার সুযোগ নেই জানিয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশ রয়েছে অপকর্মকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। এ বিষয়টি আপনার থেকে প্রথম শুনলাম। দোষ পেলে অবশ্যই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ইজারা সংক্রান্ত বা সুফলভোগীদের বৈধতা-অবৈধতা নিয়ে কোনো জটিলতা থাকলে সেখানে আমাদের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু লোকাল ঝামেলায় আমাদের তেমন কিছু করার সুযোগ নেই। এগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে।

এ বিষয়ে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) রেজিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমাধানে চাটমোহর থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলমগীর হোসাইন/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Exit mobile version