আটঘরিয়ায় পলিনেটে ভিয়েল জাতের টমেটো চাষে লাভবান কৃষক দুলাল

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে উন্নত জাতের টমেটো চাষে ব্যাপক সফলতায় বদলে গেছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র। বিঘা প্রতি জমিতে উৎপাদিত টমেটো বিক্রি করে কৃষকের লাভ হচ্ছে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা। ফলে অন্য ফসল আবাদ ছেড়ে টমেটো চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা।

 

 

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, আটঘরিয়া পৌরসভার কৃষক বাণিজ্যিকভাবে টমেটো চাষ করে সফল হয়েছেন জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক দুলাল। তার সফলতা দেখে টমেটো চাষে ঝুঁকেছেন আশেপাশের গ্রামের কৃষকেরাও। ফলে এলাকার প্রায় পুরো জমি এখন টমেটো বাগানে রূপ নিয়েছে। গ্রামটি খ্যাতি পেয়েছে ‘টমেটো গ্রাম’ নামে।

 

 

জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত সফল কৃষক দৃলাল মৃর্ধা জানান, জৈব বালাইনাশক ও উন্নত ভিয়েল জাতের টমেটো চাষ করলে সহজেই লাভের মুখ দেখা সম্ভব।ভিয়েল জাতের টমেটো আকারে বড় ও দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। ফলে অন্য টমেটোর চেয়ে দামও বেশি। প্রতিটি টমেটোর ওজন কমপক্ষে৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম। 

 

 

তিনি আরো জানান, ১ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে সার, বীজ ও শ্রমিকসহ খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টাকা। এবার বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ৩০০-৩৫০ মণ। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকা দরে। উৎপাদন খরচ বাদে প্রতি বিঘা জমির টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ  হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ৭০-৮০ হাজার টাকা লাভের মুখ দেখছেন চাষীরা। এ কারণে অন্য ফসল ছেড়ে টমেটো চাষের দিকে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা। 

 

 

তবে গ্রামগুলোয় টমেটো সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর মৌসুমের শেষদিকে বিপুল পরিমাণ টমেটো নষ্ট হয়। এ সংকট কাটাতে গ্রামটিতে সবজি সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন চাষিরা।

উত্তরচক গ্রামের চাষি হান্নান বলেন, ‘টমেটো চাষে ভালোই দাম পাওয়া যায়। অনেক সময় ব্যবসায়ীরা পুরো জমির টমেটো কিনে নেন।

 

 

 

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল হক বলেন, কেবল বাণিজ্যিক সফলতাই নয়, জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারে বিষমুক্ত নিরাপদ টমেটো উৎপাদনেও অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন এসব গ্রামের চাষিরা। আকর্ষণীয় আকার, স্বাদের সুখ্যাতির জন্য এ গ্রামের টমেটো কিনতে দূর থেকে পাইকাররা আসেন। 

এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ  বলেন,ভিয়েল জাতের টমেটো চাষ করে কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে। 

 

 

তারা আরও বেশি টমেটো আবাদ করতে পারেন। সে জন্য প্রশিক্ষণসহ ভাল মানের বীজ, সার-কীটনাশক, কৃষি প্রণোদনা দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সামনে আরও সহযোগিতা করা হবে।

Source link

Exit mobile version