
বাংলাদেশের ক্রিকেটটাই বুঝি এমন এক ম্যাচ ভালো খেললেই তাকে বানিয়ে দেওয়া হয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার বা ব্রায়ন লারা। আবার একটু ছন্দপতনেই যেনো কাল হয়ে দ্বাড়ায় ক্রিকেটারদের জন্য। মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ দেশের জন্য ব্যাট হাতে লড়েছেন অসংখ্য ম্যাচে। হারা ম্যাচটিও জিতিয়ে দিয়েছেন বহুবার। তবে এটা যে ক্রিকেট খারাপ খেললে তার সমালোচনা প্রাপ্য।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টানা দুই ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছে গত আসরের সেমিফাইনা লিষ্টরা। আর এতেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন এক সময়ের ব্যাটিং কান্ডারী মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ। যদিও মাহমুদুল্লাহ প্রথম ম্যাচে ইনজুরির কারণে স্কোয়াডে ছিলেন না। ভারতের বিপক্ষে খেলতে না পারলেও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে দলের কঠিন সময়ে ১৪ বলে মাত্র ৪ রান করে আউট হন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
আর এতেই তাকে ঘিড়ে শুরু হয় সমালোচনা, সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে দাবি ওঠে অবসরের। অধিকাংশ নেটিজেনদের মতে ৩৯ বছর বয়সী মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অবসর নেওয়ার উপযুক্ত সময় এটিই। তরুণদের সুযোগ দিয়ে তার অবসর নেওয়া উচিৎ বলেই ধারণা তাদের। যদিও এর আগের ৪ ওয়ানডেতে টানা ৪ ফিফটির দেখা পেয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ। তার ভক্তরা তাই তার খেলে যাওয়ার পক্ষে। তবে, মাঠ থেকে সম্মানজনক অবসর নিবেন তিনি এমনটিই প্রত্যাশা অনেকের। অপরদিকে মাহমুদুল্লাহ‘র ভায়রা ভাই ও দীর্ঘ দিনের সতীর্থ মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে সমালোচনাটা যেনো একটু বেশিই হচ্ছে। মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশি যেনো ভুলে গেছে ব্যাটিংটাই।
এক সময় দলের প্রয়োজনে যাকে ভরসা করা যেতো, সেই মুশিই এখন হয়ে গেছেন দলের বোঝা। নেটিজেনদের মতে কিপার কোটা আর বৃদ্ধ কোটায় খেলে যাচ্ছেন মুশফিক, এই কোটা কবে বন্ধ হবে এটিও জানতে চান অনেকে। ৩৮ বছর বয়সী মুশফিক চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দুই ম্যাচে রান করেছেন যথাক্রমে ০ এবং ২। শুধু এতটুকুই নয় সর্বশেষ ১০ ওডিআই ইনিংশে মুশফিকের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়, এসময় মাত্র ১ টি ফিফটির দেখা পেয়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
নেটিজেনদের পাশাপাশি মুশফিক মাহমুদুল্লাহকে অবসর নিতে বলেছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটাররাও। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ওয়াসিম জাফর ও দীনেশ কার্তিক দুই সিনিয়রের পারফরম্যান্সে হতাশ হয়েছেন। দীনেশ এক ধাপ এগিয়ে আবার সমালোচনা করেছেন বিসিবির। নতুনদের জায়গা দিতে দুজনকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচে মুশফিক মাহমুদুল্লাহ এর আউট হওয়ার ধরণে অবাক হয়েছেন টাইগারদের সাবেক ব্যাটিং পরামর্শক ওয়াসিম জাফর। মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন জাতীয় দলের সাবেক দুই অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন ও হাবিবুল বাশার সুমন। সুজন কোচ ছিলেন দুজনেরই। বাশার ছিলেন নির্বাচক।
দুই সিনিয়রের অবসরের সিদ্ধান্তটি তাদেরকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তারা। সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনা, নেটিজেনদের অবসরের দাবি। সব কিছু মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এক সময়ের সাইলেন্ট কিলার মাহমুদুল্লাহ ও মিষ্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিমকেই।